পারা
পারা ১ · পেজ 1/21

মাদানি মুসহাফ (৬০৪ পৃষ্ঠা) - বাংলাদেশি হাফেজির সাথে ১-২ আয়াত ভিন্ন হতে পারে

আল-ফাতিহাالفاتحة

1:1
بِسۡمِ اللهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِ﴿١﴾
বিছ্‌মি ল্‌লাহি র্‌ হ্‌মানি র্‌ হি(..মি)﴿
बिस्‌मि ल्‌लाहि र्‌ ह्‌मानि र्‌ हि(..मि)﴿
bismi ālalhi ālar rahni ālar rahim(..mi)1﴿
অর্থ:শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
अर्थ:अल्लाह के नाम से, जो अत्यन्त कृपाशील तथा दयावान् है।
Meaning:With the name of Allah, the All-Merciful, the Very-Merciful
তাফসীর সামারি
সারাংশ

কুরআনের প্রতিটি যাত্রা শুরু হয় এক টুকরো আশ্রয়ের নাম দিয়ে, বিসমিল্লাহ। এর পূর্ণ রূপ ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’; তাফসীরবিদগণ বলেন, এর আগে একটি ক্রিয়া উহ্য আছে, যেমন ‘পড়ছি’ কিংবা ‘শুরু করছি’ (আক্বরাউ/আবদাউ)। অর্থাৎ আল্লাহর নাম নিয়ে, তাঁরই সাহায্য ও বরকত চেয়ে আমি আরম্ভ করছি । এই ছোট্ট বাক্যে আল্লাহর তিনটি সুন্দরতম নাম একসাথে গাঁথা। ‘আল্লাহ’ (الله) সেই সত্য মা‘বুদের একক নাম, যা অন্য কারও জন্য উচ্চারণ করা যায় না । ‘আর-রহমান’ (الرحمن) বিশাল দয়ার অধিকারী, যাঁর সত্তাই করুণা, যাঁর রহমত দুনিয়ায় মুমিন-কাফির সবাইকে ঘিরে রাখে । আর ‘আর-রহীম’ (الرحيم) পরম করুণাময়, যিনি বিশেষভাবে তাঁর মুমিন বান্দাদের প্রতি দয়া বর্ষণ করেন । এজন্যই শরীয়তে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের সূচনায় বিসমিল্লাহ বলার তাকিদ এসেছে; খাওয়া, ওযু কিংবা যবেহের আগে তা পড়া হয় । তবে কুরআন তিলাওয়াতের বেলায় বিসমিল্লাহর আগে ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম’ পড়াও আবশ্যক, কেননা আল্লাহ বলেছেন, কুরআন পাঠের আগে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাও

নাযিলের প্রেক্ষাপট

সূরা ফাতিহাই সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি নাযিল হয়। এর আগে সূরা আলাক ও সূরা মুদ্দাসসিরের কিছু আয়াত নাযিল হলেও সেগুলো পূর্ণাঙ্গ সূরা ছিল না । সালাত মক্কাতেই ফরয হয়েছিল, আর ফাতিহা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না; এ কারণেই সূরাটির অন্যতম নাম ‘সূরাতুস সালাত’

অলংকার শাস্ত্রের আলোকে মাহাত্ম্য

নামকরণেই লুকিয়ে আছে এক সৌন্দর্য। পুরো কুরআনের মূল ভাবগুলো, আল্লাহর প্রশংসা, আদেশ-নিষেধ আর আশা-ভয়, এই সূরায় সংক্ষেপে গাঁথা বলে একে ‘উম্মুল কুরআন’ অর্থাৎ কুরআনের মূল বলা হয় । বিসমিল্লাহর নামবিন্যাসেও আছে ছন্দ; ব্যাপক সত্তাবাচক নাম ‘আল্লাহ’ দিয়ে শুরু করে দয়ার দুই গুণ ‘রহমান’ ও ‘রহীম’-এ এসে থামা, যেন পরিচয়ের পরেই করুণার আশ্বাস

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতের সাথে সম্পর্ক

এই আয়াত সূরা ফাতিহার একদম সূচনা, তাই এর পূর্বে কোনো আয়াত নেই। তবে পরবর্তী আয়াতের সঙ্গে এর বাঁধন গভীর; বান্দা প্রথমে আল্লাহর নাম ও বরকত বুকে নিয়ে শুরু করে (বিসমিল্লাহ), আর তারই স্বাভাবিক পরিণতিতে সেই মহান সত্তার প্রশংসায় মুখর হয়, ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন’। নাম-স্মরণের বিনয় গড়িয়ে যায় কৃতজ্ঞ স্তুতিতে, যেন আশ্রয়ের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রথমে মালিকের নাম ডাকা, তারপর তাঁর গুণগান। আয়াতে-আয়াতে এই সংগতি নির্ণয়ের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র শাস্ত্র ‘ইলমুল মুনাসাবাত’, যার অন্যতম গ্রন্থ ইমাম বিকাঈর ‘নাযম আদ-দুরার’ও সূরাটির সূচনা টেনেছে আল্লাহর নাম ও তাঁর দয়ার গুণ দিয়ে, যা পরের আয়াতের প্রশংসার ভূমিকা গড়ে দেয়

সব মিলিয়ে আয়াতটি যেন এক সূচনার প্রার্থনা। বান্দা নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে সেই আল্লাহর নাম বুকে নিয়ে পথ চলতে শুরু করে, যিনি অসীম দয়াময় ও পরম করুণাময়; তাঁর সাহায্য আর নামের বরকতে কাজটি কল্যাণে ভরে উঠুক, এই কামনাই এর প্রাণ। কুরআনের প্রথম শ্বাস বলে এর পূর্বে কোনো আয়াত নেই; বরং নাম-স্মরণের এই কোমল সূচনা গড়িয়ে নামে পরের আয়াতের পূর্ণ স্তুতিতে, ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন’, যেখানে ডাকার বিনয় রূপ নেয় কৃতজ্ঞ প্রশংসায়।

সূত্র
  1. .
  2. .
  3. .
  4. .
  5. .
  6. .
  7. .
যাচাইকৃত
প্রশ্ন করে জানুন
‘বিসমিল্লাহ’ বলার একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে আয়াতটি বুঝিয়ে দিন।

ভাবুন তো, কোনো বড় কাজে নামার আগে আমরা প্রায়ই প্রিয়জনের দোয়া কিংবা সম্মানিত কারও নাম নিয়ে শুরু করি, যেন কাজটি সুন্দরভাবে শেষ হয়। বিসমিল্লাহ সেই অনুভূতিরই সবচেয়ে গভীর রূপ; এখানে বান্দা নিজের সমস্ত অসহায়ত্ব স্বীকার করে স্বয়ং স্রষ্টার নাম, সাহায্য আর বরকত নিয়ে যাত্রা শুরু করে । ভাত খেতে বসা হোক, ওযু করা হোক, কিংবা নতুন কোনো উদ্যোগ, প্রতিটি কাজের গোড়ায় ‘বিসমিল্লাহ’ বলার অর্থ একটিই, এই কাজে আমি একা নই; আমার সঙ্গে আছেন সেই দয়াময় রব, যাঁর নামে শুরু হলে সামান্য কাজও কল্যাণ ও বরকতে ভরে ওঠে । ছোট্ট একটি বাক্য, অথচ তা প্রতিদিনের তুচ্ছ অভ্যাসকেও ইবাদতে বদলে দেয়।

‘বিসমিল্লাহ’ কি সূরা ফাতিহার একটি স্বতন্ত্র আয়াত?

এ নিয়ে ক্বারী ও ফকীহদের মধ্যে এক সুপরিচিত মতপার্থক্য আছে, যা জানা থাকলে মুসলিম উম্মাহর মধ্যকার ভিন্নতা সহজে বোঝা যায়। মক্কা ও কুফার ক্বারী-ফকীহগণ এবং ইমাম শাফিঈ (রহ.) মনে করেন, বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহা তথা প্রতিটি সূরার একটি আয়াত; তাই তাঁরা নামাজে এটি সশব্দে (জাহর) পড়েন । অন্যদিকে মদীনা, বসরা ও সিরিয়ার ক্বারী-ফকীহগণ এবং ইমাম আবু হানীফা (রহ.) একে স্বতন্ত্র আয়াত গণ্য করেন না; তাঁদের মতে এটি বরকতের জন্য এবং সূরাগুলোর মধ্যে পৃথকীকরণের চিহ্ন হিসেবে লেখা হয়েছে, তাই তাঁরা নিঃশব্দে (সির) পড়েন । উভয় মতই সম্মানিত ইমামদের গবেষণাপ্রসূত, তাই এ নিয়ে বিবাদ অনুচিত।

সূরা ফাতিহার এত নাম কেন, আর সেগুলোর অর্থ কী?

একটি সূরার এতগুলো নাম তার মর্যাদারই প্রমাণ; প্রতিটি নাম যেন তার একেকটি দিক তুলে ধরে। এটি ‘উম্মুল কুরআন’ বা ‘উম্মুল কিতাব’ অর্থাৎ কুরআনের মূল, কারণ কুরআনের প্রধান ভাবগুলো, প্রশংসা, আদেশ-নিষেধ, আশা-ভয়, এতে সংক্ষেপে নিহিত । প্রতি রাকাতে বারবার পঠিত হয় বলে একে ‘সাব‘উল মাসানী’ (বারবার পঠিত সাত আয়াত) বলা হয়; প্রশংসায় পরিপূর্ণ বলে ‘সূরাতুল হামদ’, নামাজের অপরিহার্য অংশ বলে ‘সূরাতুস সালাত’, আর রোগমুক্তির গুণের কারণে ‘আশ-শিফা’ ও ‘আশ-শাফিয়া’ও বলা হয় । নামগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়, এই ছোট্ট সূরাটি কেন গোটা কুরআনের সারনির্যাস।

সূরা ফাতিহা কত আয়াত, আর গণনায় মতভেদটা কোথায়?

সূরা ফাতিহা যে সাত আয়াতের, তাতে কোনো মতভেদ নেই, এটি সর্বসম্মত । পার্থক্য কেবল গণনার ভঙ্গিতে, আর তা সরাসরি যুক্ত আগের প্রশ্নটির সঙ্গে, অর্থাৎ বিসমিল্লাহ আয়াত কিনা সেই বিষয়ে। যাঁরা বিসমিল্লাহকে প্রথম আয়াত হিসেবে গণনা করেন, তাঁদের কাছে সপ্তম আয়াত হলো ‘সিরাতাল্লাযীনা আন‘আমতা আলাইহিম...’ পর্যন্ত । আর যাঁরা বিসমিল্লাহকে আলাদা আয়াত গণ্য করেন না, তাঁরা ‘গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দ্বাল্লীন’-কে দুই আয়াতে ভাগ করেন, ফলে সংখ্যা আবার সাতেই মেলে। অর্থাৎ গণনা যেভাবেই হোক, মোট আয়াত সাত-ই থাকে।

কোনো কাজ আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু করার তাৎপর্য কী?

প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু করা কেবল একটি রীতি নয়, বরং একটি গভীর স্বীকৃতি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিটি তাৎপর্যপূর্ণ কাজ আল্লাহর নাম স্মরণে শুরু করতেন, আর সেই সুন্নাহই উম্মাহর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে । এর মাধ্যমে বান্দা স্বীকার করে নেয় যে, কোনো কাজে সফলতা তার নিজের শক্তিতে নয়, বরং আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকেই সম্ভব । ফলে কাজটি যেমন বরকতে শুরু হয়, তেমনি অন্তরও বিনয়ে নুয়ে আসে; ছোট-বড় প্রতিটি কাজ তখন আল্লাহমুখী হয়ে ওঠে

প্রশ্ন করে জানুন
মূল তাফসীর পড়ুন

সরাসরি মূল ক্লাসিক তাফসীর - হুবহু, সম্পাদনা ছাড়া।

একটি তাফসীর বেছে নিন।

আরও পড়ুন: Bangla Tafheem · Quran.com

1:2
اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ‏﴿٢﴾
ল্‌হাম্‌দু লিল্‌লাহি ব্‌বি ল্‌ লামি(..না)﴿
ल्‌हाम्‌दु लिल्‌लाहि ब्‌बि ल्‌ लामि(..ना)﴿
ālmdu lilhi rabbi āl āmin(..nā)2﴿
অর্থ:যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।
अर्थ:सब प्रशंसायें अल्लाह[1] के लिए हैं, जो सारे संसारों का पालनहार[2] है।
Meaning:Praise belongs to Allah, the Lord of all the worlds
তাফসীর সামারি
সারাংশ

কুরআনের প্রথম কথাই প্রশংসা, আর সেই প্রশংসার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে এমন এক শব্দ যার ভাঁজে ভাঁজে অর্থ লুকিয়ে আছে। আরবিতে ‘হামদ’ (الحمد) সেই প্রশংসা, যা কেবল সুন্দর ও কল্যাণকর গুণের বেলাতেই বলা চলে । শব্দটির শুরুতে বসেছে ছোট্ট ‘আল’ (ال); তাফসীরের পরিভাষায় একে বলে ‘ইস্তিগরাক’ (استغراق) বা ‘ইখতিসাস’ (اختصاص), যার ইঙ্গিত একটিই, প্রশংসার যত রূপ ও যত স্তর আছে তার পুরোটুকুই কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট । কারণ এই জগতে যেখানেই কোনো সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, যেখানেই কোনো পূর্ণতা ঝলমল করে, তার শিকড় সেই এক সত্তাতেই প্রোথিত । মুফাসসিরগণ ‘হামদ’ ও ‘শুকর’ (شكر)-এর সূক্ষ্ম পার্থক্যও স্পষ্ট করেছেন; শুকর কেবল পাওয়া নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা, কিন্তু হামদ আরও প্রশস্ত, নিয়ামত পাওয়া যাক বা না-যাক, আল্লাহর সত্তা ও গুণের কারণেই তিনি চিরপ্রশংসিত । ‘আল্লাহ’ (الله) সেই প্রকৃত উপাস্যের একক নাম (المعبود بحق), যা অন্য কারও জন্য বলা যায় না । আর ‘রব’ (رب) তাঁর সুন্দরতম নামগুলোর একটি, যা শুধু ‘প্রভু’ অর্থে আটকে নেই; যিনি প্রতিটি সৃষ্টিকে গড়েন, তার প্রয়োজন বোঝেন, তারপর ধাপে ধাপে তাকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যান, তিনিই ‘রব’ । এই নামে যেমন কর্তৃত্বের গাম্ভীর্য আছে, তেমনি আছে লালনের কোমলতা । সবশেষে ‘আল-আলামীন’ (العالمين), যা ‘আলম’-এর বহুবচন; আল্লাহ ছাড়া যা কিছু আছে সবই ‘আলম’ , আর এর বহুবচন ভাসিয়ে তোলে সৃষ্টির অসংখ্য শ্রেণি, মানুষ, জিন, ফেরেশতা ও জীবজন্তুর জগৎ

অলংকার শাস্ত্রের আলোকে মাহাত্ম্য

ভাষাবিদদের চোখে ‘হামদ’ ও ‘মাদহ’ যেন দুই ভাই; দুটিই সৌন্দর্য কিংবা অনুগ্রহের ওপর প্রশংসা । কিন্তু ‘শুকর’ কেবল নিয়ামতের বেলায়, আর তা প্রকাশ পায় অন্তর, জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, এই তিনের মাধ্যমে । তাই প্রশংসার বিস্তারে হামদ সবচেয়ে প্রশস্ত, আর শুকর কৃতজ্ঞতার এক সক্রিয় প্রকাশ। আবার ‘আলামীন’ শব্দটি এসেছে ‘আলামাত’ (علامة) তথা নিদর্শন থেকে, কেননা প্রতিটি সৃষ্টিই নীরবে সাক্ষ্য দেয় তার স্রষ্টার

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতের সাথে সম্পর্ক

আগের আয়াতে (বিসমিল্লাহ) আল্লাহর নাম ও দয়ার গুণ উচ্চারণের পর এই আয়াতে আসে পূর্ণ প্রশংসা, যিনি সকল জগতের রব; যেন নাম ধরে ডাকার পরেই গুণগান। মুনাসাবাত-শাস্ত্রের গ্রন্থ ‘নাযম আদ-দুরার’-এ ইমাম বিকাঈ দেখান, ‘আলহামদু লিল্লাহ’-তে আল্লাহ সমস্ত প্রশংসার যোগ্য বলে সাব্যস্ত হওয়ার পর ‘রব’ শব্দে তিনি প্রতিপালক ও অনুগ্রহদাতা হিসেবেও সেই প্রশংসার অধিকারী রূপে আসেন, আর ‘আলামীন’ সৃষ্টির সূচনার দিকে ইঙ্গিত করে স্রষ্টার প্রমাণ পেশ করে । পরের আয়াতের সঙ্গেও বিন্যাসে আছে চমৎকার ভারসাম্য; ‘রব’ শব্দে জাগা শ্রদ্ধামাখা ভয়ের পাশে ‘আর-রহমান, আর-রহীম’ বুলিয়ে দেয় আশার পরশ, যেন ভয় ও ভরসা হাত ধরাধরি করে হাঁটে । এরপর ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দীন’ স্মরণ করায় হিসাবের দিন, আর প্রশংসা, দয়া ও জবাবদিহির তিন সুর একসঙ্গে বেজে ওঠে

সব মিলিয়ে আয়াতটি দাঁড়ায় এক পরিপূর্ণ স্তুতি। সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা সেই এক আল্লাহরই, যিনি সকল জগৎ ও জাতির রব; মানুষ হোক বা পশুপাখির অগণিত প্রজাতি, চেনা পৃথিবী হোক বা চোখের আড়ালের আরও কত জগৎ, প্রতিটির সৃষ্টি ও লালন তাঁরই হাতে গড়া। আগের আয়াতে যাঁর নাম ধরে শুরু করা হয়েছিল, এখানে এসে সেই সত্তারই গুণগান ফুটে ওঠে; আর ‘রব’ শব্দে জেগে ওঠা শ্রদ্ধামাখা ভয়ের পাশে পরের আয়াতের ‘রহমান, রহীম’ বুলিয়ে দেয় আশার পরশ, যেন ভয় আর ভরসা হাত ধরাধরি করে এগোয়।

সূত্র
  1. .
  2. .
  3. .
  4. .
  5. .
  6. .
  7. .
যাচাইকৃত
প্রশ্ন করে জানুন
আয়াতটি একটি উদাহরণসহ সহজ করে বুঝিয়ে দিন।

‘রব’ শব্দের প্রকৃত অর্থ ধরলেই আয়াতটি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে; যিনি কেবল সৃষ্টি করেই থেমে যান না, বরং প্রতিটি সৃষ্টির নীরব প্রয়োজন বুঝে ধাপে ধাপে তাকে পূর্ণতায় পৌঁছে দেন । একটি শিশুর কথাই ভাবুন, জন্মের অনেক আগে থেকেই মায়ের গর্ভে তার খাদ্য, উষ্ণতা আর বেড়ে ওঠার সমস্ত আয়োজন প্রস্তুত থাকে, সে চাওয়ার আগেই; জন্মের পরও যে বাতাসে শ্বাস নেয়, যে আলোয় চোখ মেলে, কিংবা হৃৎপিণ্ডের নিরলস স্পন্দন, একটিও সে নিজে অর্জন করেনি । এই অবিরাম লালন কেবল মানুষের জন্য নয়, জিন, ফেরেশতা, পশুপাখি, সব ‘আলামীন’-এর জন্যই প্রতিনিয়ত চলছে । তাই ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার অর্থ, এই সর্বব্যাপী, না-চাইতেই-পাওয়া অনুগ্রহের জন্য সমস্ত প্রশংসা যে কেবল সেই এক রব-এর প্রাপ্য, তা অন্তর উজাড় করে স্বীকার করে নেওয়া

‘হামদ’, ‘মাদহ’ ও ‘শুকর’ - এই তিনটি শব্দের সম্পর্ক ও পার্থক্য কী?

শব্দ তিনটি কাছাকাছি মনে হলেও এদের সীমা আলাদা, আর এই সূক্ষ্মতাই কুরআনের শব্দচয়নের গভীরতা বোঝায়। ভাষাবিদদের মতে ‘হামদ’ ও ‘মাদহ’ যেন দুই ভাই; দুটিই কোনো সৌন্দর্য বা অনুগ্রহের ওপর প্রশংসা । কিন্তু ‘শুকর’ এদের চেয়ে সংকীর্ণতর, কারণ তা কেবল প্রাপ্ত নিয়ামতের বেলায় প্রযোজ্য, আর তা ফুটে ওঠে তিনভাবে, অন্তর দিয়ে অনুভবে, জিহ্বা দিয়ে স্বীকৃতিতে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে কাজে । অর্থাৎ প্রশংসার পরিসরে হামদ সবচেয়ে ব্যাপক, যেখানে নিয়ামত পাওয়া শর্ত নয়; আর শুকর হলো নিয়ামতের প্রতিদানে কৃতজ্ঞতার এক সক্রিয়, ত্রিমুখী প্রকাশ। এজন্যই ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ‘আশ-শুকরু লিল্লাহ’-র চেয়ে বহু প্রশস্ত একটি বাক্য।

‘আলম’ যদি সব সৃষ্টিকেই বোঝায়, তবে ‘আল-আলামীন’-এ বহুবচন কেন?

এটি একটি সূক্ষ্ম ভাষাগত প্রশ্ন, যার উত্তরে লুকিয়ে আছে আয়াতের সৌন্দর্য। ‘আলম’ মূলত একটি সমষ্টিবাচক শব্দ; সাধারণত এর বহুবচন হয় না, কারণ আল্লাহ ছাড়া সমস্ত সৃষ্টির সমষ্টিকেই এক কথায় ‘আলম’ বলা হয় । তবু এখানে বহুবচন ‘আলামীন’ আনা হয়েছে আল্লাহর পরিপূর্ণ ও সর্বব্যাপী প্রতিপালকত্ব ফুটিয়ে তুলতে । এর দ্বারা চোখের সামনে ভেসে ওঠে সৃষ্টির ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণি, মানব জাতি, জিন জাতি, ফেরেশতাকুল, আর অগণিত পশুপাখি ও জীবজন্তুর জগৎ; প্রত্যেকের প্রয়োজন ভিন্ন, প্রকৃতি ভিন্ন, তবু সেই এক রব প্রত্যেকের আলাদা আলাদা যত্ন নেন । বহুবচনটি যেন বলে দেয়, তাঁর প্রতিপালনের বাইরে কিছুই নেই।

‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার ফযীলত সম্পর্কে হাদীসে কী এসেছে?

ছোট্ট এই বাক্যটির মর্যাদা হাদীসে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে, যা শুনলে এর প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়। হাদীসে ‘আলহামদুলিল্লাহ’-কে শ্রেষ্ঠ দু‘আ বলা হয়েছে, আর বর্ণিত আছে যে তা নেকির দাঁড়িপাল্লা পূর্ণ করে দেয় । এ কারণেই আল্লাহ পছন্দ করেন যে, বান্দা প্রতিটি পানাহারের পরও তাঁর প্রশংসা করুক । ভেবে দেখুন, আমরা যে খাবার খাই, যে পানি পান করি, তার পেছনে কত অসংখ্য অনুগ্রহ লুকিয়ে আছে; সেই অনুভব থেকে একটিবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা যেন সামান্য চেষ্টায় বিশাল প্রতিদানের দরজা খুলে দেয়। তাই বাক্যটি নিছক অভ্যাস নয়, বরং প্রতিদানে ভরা এক জীবন্ত ইবাদত।

আয়াতটি তো সংবাদবাচক বাক্য, তবু কীভাবে এটি প্রশংসা বোঝায়?

এটি কুরআনের ভাষাশৈলীর একটি চমৎকার দিক, যা অলংকারশাস্ত্রে আলোচিত হয়। জালালাইনের ব্যাখ্যায়, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ আক্ষরিকভাবে একটি ‘জুমলা খবরিয়া’ তথা সংবাদবাচক বাক্য, অর্থাৎ এটি যেন একটি তথ্য জানাচ্ছে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর’ । কিন্তু এর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিছক তথ্য দেওয়া নয়, বরং এর মর্ম দ্বারা আল্লাহর ‘সানা’ বা প্রশংসা করা । ভাষার এই কৌশলে সংবাদের আকারে এসেছে স্তুতি; যেন বলা হচ্ছে, এটি কেবল আমার মত নয়, এটিই চিরন্তন সত্য যে তিনিই সমুদয় প্রশংসার মালিক ও একমাত্র যোগ্য। ফলে বাক্যটি একইসঙ্গে একটি ঘোষণা এবং একটি ইবাদত হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন করে জানুন
মূল তাফসীর পড়ুন

সরাসরি মূল ক্লাসিক তাফসীর - হুবহু, সম্পাদনা ছাড়া।

একটি তাফসীর বেছে নিন।

আরও পড়ুন: Bangla Tafheem · Quran.com

1:3
الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِۙ‏﴿٣﴾
র্‌ হ্‌মানি র্‌ হি(..মি)﴿
र्‌ ह्‌मानि र्‌ हि(..मि)﴿
ār rahni ālar rahim(..mi)3﴿
অর্থ:যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।
अर्थ:जो अत्यंत कृपाशील और दयावान्[1] है।
Meaning:the All-Merciful, the Very Merciful
তাফসীর সামারি
সারাংশ

আগের আয়াতে আল্লাহকে ‘রব্বুল আলামীন’ বলার পর এখানে যোগ হলো দুটি স্নিগ্ধ নাম, ‘আর-রহমান’ ও ‘আর-রহীম’ । দুটিই দয়ার নাম, তবু গঠনে গভীর তাৎপর্য; ‘রহমান’ এসেছে ‘ফা‘লান’ ছাঁদে আর ‘রহীম’ ‘ফা‘ঈল’ ছাঁদে, উভয়ই মুবালাগা তথা আধিক্য-জ্ঞাপক রূপ । ‘রহমান’-এ দয়ার ব্যাপ্তি বিশাল; দুনিয়ায় বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী নির্বিশেষে সবাই তাঁর রহমতে বাঁচে, প্রকৃতির শৃঙ্খলা থেকে জীবিকা পর্যন্ত সবই সেই সর্বজনীন করুণার প্রকাশ । আর ‘রহীম’ সেই স্থায়ী, বিশেষ দয়া, যা আখিরাতে কেবল মুমিনদের জন্য সংরক্ষিত । মুফাসসিরগণ বলেন, আল্লাহ সমস্ত প্রশংসার যোগ্য কেবল রব হওয়ায় নয়, বরং এই অপার দয়ার কারণেও

অলংকার শাস্ত্রের আলোকে মাহাত্ম্য

নাম দুটির গঠনেই লুকিয়ে আছে অলংকার। ‘রহমান’ (ফা‘লান ছাঁদ) ও ‘রহীম’ (ফা‘ঈল ছাঁদ), উভয়ই মুবালাগার রূপ, যা দয়ার আধিক্য ও গভীরতা বোঝায় । অনেক আলিম বলেন, ‘রহমান’-এ দয়ার ব্যাপ্তি বেশি আর ‘রহীম’-এ আছে স্থায়িত্ব; দুই নাম পাশাপাশি বসিয়ে দয়ার ব্যাপ্তি ও গভীরতা একসঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতের সাথে সম্পর্ক

আগের আয়াতে ‘রব’ শব্দে যে কর্তৃত্ব ও শ্রদ্ধামাখা ভয় জেগেছিল, এই আয়াতের ‘রহমান, রহীম’ সঙ্গে সঙ্গে এনে দেয় আশা ও প্রশান্তি, যেন ভয় ও ভরসা ভারসাম্যে দাঁড়ায় । আর পরের আয়াতে ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দীন’ এসে স্মরণ করায় বিচারের দিন; দয়ার ঘোষণা শেষেই আসে জবাবদিহির স্মরণ, যেন বান্দা আশা ও সতর্কতা দুটোই বুকে রাখে

সব মিলিয়ে আয়াতটি যেন করুণার এক ঘোষণা। সেই আল্লাহ, যিনি সকল জগতের রব, তিনিই অসীম দয়াময় ও পরম করুণাময়; তাঁর সর্বজনীন রহমত দুনিয়াজুড়ে সবার ওপর বর্ষিত, আর বিশেষ দয়া আখিরাতে মুমিনদের জন্য অপেক্ষমাণ। প্রভুত্বের গাম্ভীর্যের পাশে এই দয়ার নাম দুটি বসিয়ে অন্তরে জন্ম নেয় ভালোবাসা, আর পরের আয়াতের বিচারদিনের স্মরণ সেই ভালোবাসাকে দায়িত্ববোধে বাঁধে।

সূত্র
  1. .
  2. .
  3. .
  4. .
  5. .
যাচাইকৃত
প্রশ্ন করে জানুন
‘রহমান’ ও ‘রহীম’ একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিন।

ভাবুন সূর্যের আলো আর বৃষ্টির কথা; তা ভালো-মন্দ সবার ওপরই অকাতরে ঝরে, কেউ চাক বা না-চাক। ‘রহমান’ আল্লাহর সেই সর্বজনীন দয়া, দুনিয়ায় যা বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাইকে ঘিরে রাখে । আর ‘রহীম’ যেন এক পিতার নিজের সন্তানের প্রতি বিশেষ যত্ন, আখিরাতে যা কেবল মুমিনদের জন্য তোলা থাকে । একটি দয়া সবার জন্য খোলা, অন্যটি বিশ্বস্তদের জন্য সংরক্ষিত।

দুটোই যখন দয়ার নাম, তখন একসঙ্গে দুটি কেন আনা হলো?

কারণ একে অপরের পরিপূরক। ‘রহমান’ দয়ার বিশালতা বোঝায়, ‘রহীম’ বোঝায় তার স্থায়িত্ব ও বিশেষত্ব । একটির অভাবে দয়ার ছবি অসম্পূর্ণ থাকত; পাশাপাশি বসিয়ে আল্লাহ একসঙ্গে তাঁর দয়ার ব্যাপ্তি ও গভীরতা, দুটোই প্রকাশ করেছেন

‘মুবালাগা’ রূপ মানে কী, এতে অর্থ কীভাবে বদলায়?

মুবালাগা হলো আরবি ব্যাকরণের আধিক্য-জ্ঞাপক রূপ, যা সাধারণ অর্থকে তীব্রতর করে। ‘রহমান’ (ফা‘লান) ও ‘রহীম’ (ফা‘ঈল) দুটিই এমন রূপ, তাই এগুলো নিছক ‘দয়ালু’ নয়, বরং ‘অসীম দয়াময়’ ও ‘পরম করুণাময়’ অর্থ বহন করে । ছোট্ট গঠনগত পার্থক্যই দয়ার বিশালতাকে ভাষায় ফুটিয়ে তোলে।

আল্লাহর রহমত কি অবিশ্বাসীরাও পায়?

দুনিয়ার জীবনে হ্যাঁ। আল্লাহর সর্বজনীন রহমতে কাফির, মুশরিক, এমনকি অস্বীকারকারীও জীবন, জীবিকা ও বৈষয়িক কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয় না; প্রকৃতির শান্তি-শৃঙ্খলা তারই সাক্ষী । তবে আখিরাতের বিশেষ দয়া (‘রহীম’) কেবল মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট

‘রহমান’ ও ‘রহীম’-এ দুনিয়া ও আখিরাতের পার্থক্য কী?

অনেক মুফাসসির বলেন, ‘রহমান’ দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের সর্বজনীন দয়া, যাতে সবাই উপকৃত হয়; আর ‘রহীম’ মূলত আখিরাতের সেই বিশেষ দয়া, যা মুমিনদের জন্য সংরক্ষিত । তাই দোয়া করা হয়, আল্লাহ যেন আমাদের সেই বিশেষ দয়ার অধিকারীদের মধ্যে রাখেন।

প্রশ্ন করে জানুন
মূল তাফসীর পড়ুন

সরাসরি মূল ক্লাসিক তাফসীর - হুবহু, সম্পাদনা ছাড়া।

একটি তাফসীর বেছে নিন।

আরও পড়ুন: Bangla Tafheem · Quran.com

1:4
مٰلِكِ يَوۡمِ الدِّيۡنِؕ‏﴿٤﴾
মালিকি য়্যামি দ্‌ দি(..নি)﴿
मालिकि य्यामि द्‌ दि(..नि)﴿
liki yyāomi ālad din(..ni)4﴿
অর্থ:যিনি বিচার দিনের মালিক।
अर्थ:जो प्रतिकार[1] (बदले) के दिन का मालिक है।
Meaning:the Master of the Day of Requital
তাফসীর সামারি
সারাংশ

এই আয়াতে আল্লাহকে ঘোষণা করা হলো ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দীন’, বিচারদিনের মালিক । ‘ইয়াওমুদ্দীন’ অর্থ প্রতিদান ও হিসাব-নিকাশের দিন, যেদিন প্রত্যেকে তার ভালো-মন্দ কাজের পূর্ণ ফল পাবে । দুনিয়ায় বহু মানুষ ক্ষণিকের ক্ষমতা পায়, কিন্তু সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর; তিনি বলবেন, ‘আজ রাজত্ব কার?’, আর উত্তরও তিনিই দেবেন, ‘পরাক্রমশালী একক আল্লাহর’ । কুরআনের সাত কিরাআতের মধ্যে এই শব্দ দু’ভাবে পঠিত, ‘মালিক’ (মালিক/অধিপতি) ও ‘মা-লিক’ (মালিকানার অধিকারী); উভয়ই বিশুদ্ধ ও মুতাওয়াতির, আর দুই পাঠেই ফুটে ওঠে সেদিনের ওপর আল্লাহর একচ্ছত্র অধিকার

অলংকার শাস্ত্রের আলোকে মাহাত্ম্য

বিশেষভাবে ‘বিচারদিনের’ মালিকানা উল্লেখের মধ্যেই অলংকার; যদিও আল্লাহ সর্বকালের মালিক, তবু সেই দিনকে আলাদা করে বলা হলো, কারণ সেদিন আর কারও প্রকাশ্য কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না । ‘মালিক’ ও ‘মা-লিক’, দুই কিরাআত দুই সৌন্দর্য আনে; একটিতে ফুটে ওঠে রাজত্বের কর্তৃত্ব, অন্যটিতে মালিকানার পূর্ণ অধিকার

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতের সাথে সম্পর্ক

আগের আয়াতে আল্লাহর অপার দয়ার (রহমান, রহীম) কথা শোনার পর এই আয়াত এনে দেয় ভারসাম্য, সেই দয়াময় সত্তাই আবার বিচারদিনের মালিক । শুধু দয়ার কথা শুনলে বান্দা গাফিল হয়ে পড়তে পারত, আর শুধু বিচারের কথায় জন্মাত হতাশা; দুইয়ের মাঝে এই বিন্যাসে আশা ও ভয় একসঙ্গে জাগে । আর এই জবাবদিহির অনুভব থেকেই পরের আয়াতে স্বাভাবিকভাবে আসে আত্মনিবেদন, ‘ইয়্যাকা না‘বুদু’, কেবল তোমারই ইবাদত করি

সব মিলিয়ে আয়াতটি দাঁড়ায় এক গম্ভীর স্মরণ। যিনি সকল জগতের রব ও অসীম দয়াময়, সেই সত্তাই বিচারের দিনের একচ্ছত্র মালিক, যেদিন প্রতিটি কাজের পূর্ণ হিসাব হবে এবং কোনো ক্ষমতা টিকবে না তাঁর ছাড়া। দয়ার আশ্বাসের পরেই এই দায়িত্বের স্মরণ অন্তরে আশা ও ভয়ের ভারসাম্য গড়ে দেয়, আর সেই অনুভব থেকেই পরের আয়াতে বান্দা নিজেকে সঁপে দেয় কেবল তাঁরই ইবাদতে।

সূত্র
  1. .
  2. .
  3. .
  4. .
  5. .
যাচাইকৃত
প্রশ্ন করে জানুন
‘ইয়াওমুদ্দীন’ বা বিচারদিন বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

‘ইয়াওমুদ্দীন’ হলো প্রতিদান ও হিসাব-নিকাশের দিন, কিয়ামত । সেদিন আল্লাহ প্রত্যেককে তার ভালো ও মন্দ কাজ অনুযায়ী পূর্ণ প্রতিদান দেবেন; দুনিয়ায় যে ইনসাফ অসম্পূর্ণ থেকে যায়, সেদিন তা পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে । তাই দিনটি একইসঙ্গে আশার ও সতর্কতার।

আল্লাহ তো সবসময়ের মালিক, তবে শুধু ‘বিচারদিনের মালিক’ বলা হলো কেন?

কারণ সেদিনই আল্লাহর একচ্ছত্র মালিকানা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে । দুনিয়ায় মানুষ ক্ষণিকের ক্ষমতা পায়, কিন্তু কিয়ামতে কারও কোনো প্রকাশ্য কর্তৃত্ব থাকবে না; তাই বিশেষভাবে সেই দিনের মালিকানা উল্লেখ করে সেদিনের ভয়াবহতা ও আল্লাহর পূর্ণ কর্তৃত্ব মনে গেঁথে দেওয়া হয়েছে

‘মালিক’ ও ‘মা-লিক’ দুই পাঠের পার্থক্য ও তাৎপর্য কী?

সাত কিরাআতের মধ্যে শব্দটি দু’ভাবে পঠিত; ‘মালিক’ অর্থ অধিপতি বা রাজা, আর ‘মা-লিক’ অর্থ মালিকানার অধিকারী । উভয় পাঠই বিশুদ্ধ ও মুতাওয়াতির এবং অর্থে পরিপূরক; এক পাঠে ফুটে ওঠে সেদিনের রাজত্ব, অন্যটিতে সবকিছুর ওপর পূর্ণ মালিকানা । তাই দুই পাঠ মিলিয়ে অর্থ আরও সমৃদ্ধ হয়।

এই আয়াত আমাদের জীবনে কী শিক্ষা দেয়?

এটি দায়িত্ববোধ জাগায়। যেহেতু একদিন প্রতিটি কাজের হিসাব হবে এবং সেদিনের মালিক একমাত্র আল্লাহ, তাই বান্দা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতায় ভুলে না গিয়ে প্রতিটি কাজে আল্লাহকে স্মরণ রাখে । আশা ও ভয়ের এই ভারসাম্যই সৎ জীবনযাপনের চালিকাশক্তি।

প্রশ্ন করে জানুন
মূল তাফসীর পড়ুন

সরাসরি মূল ক্লাসিক তাফসীর - হুবহু, সম্পাদনা ছাড়া।

একটি তাফসীর বেছে নিন।

আরও পড়ুন: Bangla Tafheem · Quran.com

1:5
اِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَاِيَّاكَ نَسۡتَعِيۡنُؕ‏﴿٥﴾
য়্‌য়্যাকা নাআ্‌বুদু য়্‌য়্যাকা নাছ্‌তা(..নু)﴿
य्‌य्याका नाआ्‌बुदु य्‌य्याका नास्‌ता(..नु)﴿
iyyyā ā্budu aiyyyā sin(..nu)5﴿
অর্থ:আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
अर्थ:(हे अल्लाह!) हम केवल तुझी को पूजते हैं और केवल तुझी से सहायता मांगते[1] हैं।
Meaning:You alone do we worship, and from You alone do we seek help
তাফসীর সামারি
সারাংশ

এতক্ষণ আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তনের পর এখানে বান্দা প্রথমবার সরাসরি তাঁকে সম্বোধন করে বলে, ‘ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তা‘ঈন’, কেবল তোমারই ইবাদত করি, কেবল তোমারই সাহায্য চাই । ‘ইবাদত’ শব্দের অর্থ চরম বিনয় ও আত্মসমর্পণ; ইবনে কাসীরের মতে এটি পূর্ণ ভালোবাসা, বিনয় ও ভয়ের সমষ্টি । লক্ষণীয়, সরল গঠন হতে পারত ‘না‘বুদুকা’ (তোমার ইবাদত করি), কিন্তু আল্লাহ কর্মপদ ‘ইয়্যাকা’ (কেবল তোমাকে) আগে এনে বুঝিয়ে দিলেন, ইবাদত ও সাহায্য চাওয়া কেবল তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট, আর কারও জন্য নয় । এই এক বাক্যেই গাঁথা তাওহিদের মর্ম, এবং প্রশংসা থেকে প্রার্থনায় উত্তরণের সুন্দর সেতু

অলংকার শাস্ত্রের আলোকে মাহাত্ম্য

এখানে অলংকারের দুটি দিক জ্বলজ্বল করছে। প্রথমত, কর্মপদকে (‘ইয়্যাকা’) ক্রিয়ার আগে বসানো (তাকদীম), যা ‘ইখতিসাস’ তথা নির্দিষ্টীকরণ বোঝায়, ইবাদত কেবল তোমারই জন্য । দ্বিতীয়ত, এতক্ষণ আল্লাহর কথা পরোক্ষভাবে বলা হচ্ছিল (তিনি রব, তিনি রহমান), এখানে এসে হঠাৎ সরাসরি সম্বোধন (তুমি), অলংকারে যাকে ‘ইলতিফাত’ বলে; প্রশংসায় হৃদয় যখন আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে যায়, তখন কথা স্বাভাবিকভাবেই পরোক্ষ থেকে প্রত্যক্ষে বদলে যায়

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতের সাথে সম্পর্ক

আগের চারটি আয়াতে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ (রব, রহমান, রহীম, বিচারদিনের মালিক) বর্ণনার পর এই আয়াত যেন তারই স্বাভাবিক ফল, যে সত্তা এত মহান ও দয়াময়, ইবাদত ও নির্ভরতা কেবল তাঁকেই মানায় । ইবনে কাসীর বলেন, সূরাটির প্রথম অর্ধ আল্লাহর প্রশংসা, আর এই আয়াত থেকে শুরু বান্দার আবেদন; প্রশংসার পরেই প্রার্থনা, এটিই চাওয়া কবুলের উৎকৃষ্ট রীতি । এরপরের আয়াতে সেই সাহায্য-প্রার্থনাই রূপ নেয় সুনির্দিষ্ট দোয়ায়, ‘আমাদের সরল পথ দেখাও’

সব মিলিয়ে আয়াতটি যেন প্রশংসা থেকে প্রার্থনায় হৃদয়ের উত্তরণ। যিনি রব, যিনি অসীম দয়াময়, যিনি বিচারদিনের মালিক, তাঁকে চিনে নেওয়ার পর বান্দা সরাসরি তাঁকেই বলে, ইবাদত আমি কেবল তোমারই করি, আর জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনে সাহায্যও চাই কেবল তোমার কাছে। এক বাক্যেই উচ্চারিত হয় তাওহিদ, আর গুণকীর্তনের পথ গড়িয়ে নামে আত্মনিবেদনে, যা পরের আয়াতে রূপ নেবে পথের জন্য আকুল মিনতিতে।

সূত্র
  1. .
  2. .
  3. .
  4. .
  5. .
যাচাইকৃত
প্রশ্ন করে জানুন
‘ইবাদত’ বলতে আসলে কী বোঝায়?

‘ইবাদত’ মানে কেবল নামাজ-রোজা নয়, বরং চরম বিনয় ও আত্মসমর্পণ । ইবনে কাসীরের ভাষায় এটি পূর্ণ ভালোবাসা, বিনয় ও ভয়, এই তিনের সমষ্টি । অর্থাৎ যাঁকে ভালোবাসি তাঁরই মহাশক্তির সামনে নিজের অসহায়ত্ব মেনে নেওয়া এবং তাঁর শাস্তির ভয়ও অন্তরে রাখা; এই পূর্ণ সমর্পণই প্রকৃত ইবাদত।

‘ইয়্যাকা’ (কেবল তোমাকে) শব্দটি আগে আনার তাৎপর্য কী?

সরল গঠনে বলা যেত ‘না‘বুদুকা’ (তোমার ইবাদত করি)। কিন্তু কর্মপদ ‘ইয়্যাকা’ ক্রিয়ার আগে আনায় (তাকদীম) তৈরি হয় ‘ইখতিসাস’ তথা নির্দিষ্টীকরণ, যার অর্থ ইবাদত ও সাহায্য কেবল তোমারই জন্য, আর কারও জন্য নয় । শব্দের এই বিন্যাসেই তাওহিদের মর্ম দৃঢ় হয়ে ওঠে।

আয়াতে হঠাৎ ‘তিনি’ থেকে ‘তুমি’-তে সম্বোধন বদলে গেল কেন?

এটি অলংকারের ‘ইলতিফাত’ রীতি । প্রথম আয়াতগুলোতে আল্লাহকে পরোক্ষভাবে বলা হচ্ছিল (তিনি রব, তিনি রহমান); প্রশংসা করতে করতে বান্দার হৃদয় যখন তাঁর নৈকট্য অনুভব করে, তখন কথা স্বাভাবিকভাবেই সরাসরি সম্বোধনে বদলে যায়, ‘কেবল তোমারই ইবাদত করি’ । এই পরিবর্তন ইবাদতে আন্তরিকতা ও জীবন্ততা এনে দেয়।

ইবাদতের কথা বলার সাথে সাথেই সাহায্য চাওয়ার কথা কেন?

কারণ ইবাদত নিজেও আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। বান্দা ঘোষণা করে যে সে কেবল তাঁরই দাসত্ব করবে, আর সঙ্গে সঙ্গে স্বীকার করে নেয়, সেই দাসত্ব পালনের শক্তিও কেবল তাঁর কাছ থেকেই চাই । তাওহিদ ও বিনয়, দুটি একই নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হয়।

এই আয়াতকে কেন সূরার মোড়-ফেরা বলা হয়?

হাদীসে এসেছে, আল্লাহ সূরা ফাতিহাকে নিজের ও বান্দার মাঝে অর্ধেক-অর্ধেক ভাগ করেছেন । প্রথম অর্ধ আল্লাহর প্রশংসা, আর এই আয়াত থেকে শুরু হয় বান্দার আবেদন । প্রশংসার পর প্রার্থনা, চাওয়া কবুলের এটিই সবচেয়ে সুন্দর পথ; তাই এই আয়াত প্রশংসা থেকে প্রার্থনার সেতু।

প্রশ্ন করে জানুন
মূল তাফসীর পড়ুন

সরাসরি মূল ক্লাসিক তাফসীর - হুবহু, সম্পাদনা ছাড়া।

একটি তাফসীর বেছে নিন।

আরও পড়ুন: Bangla Tafheem · Quran.com

1:6
اِهۡدِنَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِيۡمَۙ‏﴿٦﴾
হ্‌দিনা ছ্‌ ছি ল্‌ মুছ্‌তাকি(..মা)﴿
ह्‌दिना स्‌ सि ल्‌ मुस्‌ताकि(..मा)﴿
ihdi ālas sirat āl muskim(..mā)6﴿
অর্থ:আমাদেরকে সরল পথ দেখাও
अर्थ:हमें सुपथ (सीधा मार्ग) दिखा।
Meaning:Take us on the straight path
তাফসীর সামারি
সারাংশ

ইবাদত ও সাহায্য-প্রার্থনার ঘোষণার পর এই আয়াতে আসে বান্দার প্রথম ও প্রধান চাওয়া, ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম’, আমাদের সরল পথ দেখাও । ‘হিদায়াত’ শব্দের কয়েকটি স্তর; কেবল পথ চিনিয়ে দেওয়া নয়, বরং সেই পথে চলার তাওফিক দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছিয়ে দেওয়া । ‘সিরাতুল মুস্তাকীম’ হলো সেই স্পষ্ট, বক্রতাহীন পথ, অর্থাৎ ইসলাম, যা নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর সামনে পেশ করেছেন এবং যা আজ কুরআন ও সহিহ হাদীসে সুরক্ষিত । এই সরল পথ কেবল বুদ্ধি দিয়ে অর্জিত হয় না, এর জন্য আল্লাহর হিদায়াত অপরিহার্য

অলংকার শাস্ত্রের আলোকে মাহাত্ম্য

চাওয়ার ভাষাতেই আছে সৌন্দর্য। বান্দা শুধু একবারের জন্য পথ চেনা চায় না, বরং ‘হিদায়াত’ শব্দের ব্যাপ্ত অর্থে চায় পথ চেনা, পথে চলা ও লক্ষ্যে পৌঁছা, একসঙ্গে । আর ‘মুস্তাকীম’ (সরল, বক্রতাহীন) শব্দটি ইঙ্গিত করে, সত্য পথ একটিই ও সুস্পষ্ট, তার কোনো আঁকাবাঁকা নেই

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতের সাথে সম্পর্ক

আগের আয়াতে বান্দা সাহায্য চেয়েছিল (‘ইয়্যাকা নাস্তা‘ঈন’); এই আয়াত সেই সাহায্য-প্রার্থনাকেই সুনির্দিষ্ট রূপ দেয়, সবচেয়ে বড় যে সাহায্য তা হলো সরল পথের হিদায়াত । ইবাদতের ঘোষণার পরেই পথের জন্য মিনতি, কারণ সঠিক পথ না জানলে ইবাদতও লক্ষ্যহীন হয়ে পড়ে। আর পরের আয়াতে এই ‘সিরাতুল মুস্তাকীম’-এরই ব্যাখ্যা আসে, কাদের পথ তা, আর কাদের পথ নয়

সব মিলিয়ে আয়াতটি যেন বান্দার অন্তরের সবচেয়ে গভীর আকুতি। আল্লাহকে চিনে, কেবল তাঁরই ইবাদত ও সাহায্য চাওয়ার পর বান্দা এবার চায় জীবনের দিকনির্দেশ, আমাদের সেই সরল পথ দেখাও, সে পথে চলার শক্তি দাও, আর শেষ পর্যন্ত মঞ্জিলে পৌঁছিয়ে দাও। এই পথ ইসলামেরই পথ, আর পরের আয়াতে স্পষ্ট হবে তা আসলে কাদের পথ, যেন প্রার্থনাটি পূর্ণতা পায়।

সূত্র
  1. .
  2. .
  3. .
  4. .
  5. .
যাচাইকৃত
প্রশ্ন করে জানুন
‘হিদায়াত’ শব্দের অর্থ কি শুধু পথ দেখানো?

না, ‘হিদায়াত’ শব্দের কয়েকটি স্তর আছে । এটি একইসঙ্গে পথের দিক দেখানো, সে পথে চলার তাওফিক দেওয়া এবং গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দেওয়া বোঝায় । তাই বান্দা যখন ‘ইহদিনা’ বলে, সে কেবল পথ চেনা নয়, বরং সে পথে অবিচল থাকার ও সফলভাবে পৌঁছার সাহায্যও চায়।

‘সিরাতুল মুস্তাকীম’ বা সরল পথ আসলে কোনটি?

মুফাসসিরগণের মতে এটি সেই স্পষ্ট, বক্রতাহীন পথ, অর্থাৎ ইসলাম, যা নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সামনে পেশ করেছেন । আজ সেই পথ কুরআন ও সহিহ হাদীসের মধ্যে সুরক্ষিত । এটি নতুন কোনো পথ নয়, বরং আদিকাল থেকে নবীদের আনা চিরন্তন সত্যের পথ।

ঈমান থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রতি নামাজে হিদায়াত চাই কেন?

কারণ হিদায়াত একবারের বিষয় নয়, প্রতিনিয়ত অবিচল থাকার বিষয়। সরল পথ কেবল জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে ধরে রাখা যায় না; এর জন্য প্রতিমুহূর্তে আল্লাহর তাওফিক দরকার । তাই মুমিনও দিনে বহুবার এই দোয়া করে, যেন সে পথে অটল থাকে এবং হিদায়াত আরও বাড়ে

সবচেয়ে বড় সাহায্য হিসেবে পথের হিদায়াত চাওয়া হলো কেন?

কারণ সঠিক পথ ছাড়া আর সব অর্জন অর্থহীন। আগের আয়াতে বান্দা সাহায্য চেয়েছিল, আর এই আয়াতে সেই সাহায্যের সবচেয়ে জরুরি রূপটি নির্দিষ্ট করল, সরল পথের দিশা । ইবাদত তখনই সার্থক, যখন তা সঠিক পথ ধরে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে এগোয়।

প্রশ্ন করে জানুন
মূল তাফসীর পড়ুন

সরাসরি মূল ক্লাসিক তাফসীর - হুবহু, সম্পাদনা ছাড়া।

একটি তাফসীর বেছে নিন।

আরও পড়ুন: Bangla Tafheem · Quran.com

1:7
صِرَاطَ الَّذِيۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ ۙ‏ غَيۡرِ الۡمَغۡضُوۡبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا الضَّآلِّيۡنَ‏﴿٧﴾
ছি ল্‌ লাজিনা ন্‌ম্‌তা লাহিম্‌ রি ল্‌ মাগ্‌দুবি লাহিম্‌ লা দ্‌ ….ল্‌লি(..না)﴿
सि ल्‌ लाजिना न्‌म्‌ता लाहिम्‌ रि ल्‌ माग्‌दुबि लाहिम्‌ ला द्‌ ….ल्‌लि(..ना)﴿
sirat āl ji ānām āihim gairi āl gdubi āihim a ālad da….llin(..nā)7﴿
অর্থ:সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
अर्थ:उनका मार्ग, जिनपर तूने पुरस्कार किया।[1] उनका नहीं, जिनपर तेरा प्रकोप[2] हुआ और न ही उनका, जो कुपथ (गुमराह) हो गये।
Meaning:the path of those on whom You have bestowed Your Grace, not of those who have incurred Your wrath, nor of those who have gone astray
তাফসীর সামারি
সারাংশ

এই আয়াত আগের ‘সিরাতুল মুস্তাকীম’-এরই ব্যাখ্যা; সরল পথ মানে তাদের পথ ‘যাদের ওপর তুমি অনুগ্রহ করেছ’ । কারা সেই অনুগ্রহপ্রাপ্ত? কুরআন অন্যত্র (সূরা নিসা ৪:৬৯) বলেছে, তাঁরা হলেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলগণ, কতই না উত্তম তাঁদের সঙ্গ । এরপর দুটি বিচ্যুত পথ থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে; ‘মাগদুব’ তথা যারা সত্য জেনেও মানেনি, তাই আল্লাহর ক্রোধের শিকার, এবং ‘দ্বাল্লীন’ তথা যারা না জেনে পথভ্রষ্ট । অর্থাৎ প্রার্থিত পথ হলো জ্ঞান ও আমল, উভয়ের সমন্বিত পথ, যেখানে সত্য জানাও আছে, মানাও আছে

অলংকার শাস্ত্রের আলোকে মাহাত্ম্য

পথটিকে কেবল নিয়ম দিয়ে নয়, বরং পথিকদের দিয়ে চেনানো হয়েছে, ‘যাদের ওপর তুমি অনুগ্রহ করেছ’, যা পথটিকে জীবন্ত ও কাঙ্ক্ষিত করে তোলে । আর সরল পথের পাশে দুটি বিপরীত পথ (ক্রুদ্ধদের ও পথভ্রষ্টদের) উল্লেখ করে বৈসাদৃশ্যের মাধ্যমে সঠিক পথের পরিচয় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতের সাথে সম্পর্ক

আগের আয়াতে চাওয়া ‘সিরাতুল মুস্তাকীম’ এখানে এসে সংজ্ঞায়িত হলো, এটি অনুগ্রহপ্রাপ্তদের পথ । সরল পথের প্রার্থনা তখনই পূর্ণ হয়, যখন জানা যায় তা কাদের পথ এবং কাদের পথ নয়। সূরাটি শুরু হয়েছিল আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে, আর শেষ হলো তাঁর প্রিয় বান্দাদের পথে চলার আকুতি দিয়ে; প্রশংসা, আত্মনিবেদন ও দিকনির্দেশের এই পূর্ণ বৃত্তেই সূরা ফাতিহার সৌন্দর্য

সব মিলিয়ে আয়াতটি প্রার্থনাটিকে পূর্ণতা দেয়। বান্দা যে সরল পথ চেয়েছিল, তা আসলে সেই সৌভাগ্যবানদের পথ, যাঁদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককারগণ; আর সে আশ্রয় চায় দুই বিচ্যুতি থেকে, সত্য জেনেও না-মানার পথ এবং না-জেনে ভ্রষ্ট হওয়ার পথ থেকে। শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা, মাঝে কেবল তাঁরই ইবাদত ও সাহায্যের ঘোষণা, আর শেষে তাঁর প্রিয়দের পথে চলার মিনতি, এই পূর্ণ বৃত্তেই গোটা সূরার প্রাণ।

সূত্র
  1. .
  2. .
  3. .
  4. .
  5. .
যাচাইকৃত
প্রশ্ন করে জানুন
‘অনুগ্রহপ্রাপ্ত’ ব্যক্তিরা কারা?

তাঁরা সেই সৌভাগ্যবান, যাঁদের আল্লাহ হিদায়াত ও নিয়ামত দিয়ে ধন্য করেছেন । কুরআন সূরা নিসায় (৪:৬৯) তাঁদের পরিচয় দিয়েছে, নবী, সিদ্দীক (পরম সত্যবাদী), শহীদ ও সৎকর্মশীলগণ; আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না উত্তম । সরল পথ চাওয়া মানে এই মহান কাফেলার সঙ্গী হওয়ার প্রার্থনা।

‘মাগদুব’ (ক্রুদ্ধদের) ও ‘দ্বাল্লীন’ (পথভ্রষ্টদের) পার্থক্য কী?

‘মাগদুব’ তারা, যারা সত্য জেনেও তা অনুসরণ করেনি, তাই আল্লাহর ক্রোধের শিকার; আর ‘দ্বাল্লীন’ তারা, যারা না জেনে, সঠিক পথ অনুসন্ধানে ত্রুটি করে পথভ্রষ্ট হয়েছে । অর্থাৎ প্রথম দলের ত্রুটি আমলে, দ্বিতীয় দলের ত্রুটি জ্ঞানে; দুটি থেকেই আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

পথটিকে নিয়ম দিয়ে না বুঝিয়ে ‘পথিকদের’ দিয়ে বোঝানো হলো কেন?

কারণ জীবন্ত উদাহরণ অন্তরে বেশি প্রভাব ফেলে। ‘অনুগ্রহপ্রাপ্তদের পথ’ বলায় সরল পথ আর বিমূর্ত কোনো ধারণা থাকে না, বরং নবী-সিদ্দীক-শহীদদের বাস্তব কাফেলায় রূপ নেয় । মানুষ তখন সেই সম্মানিত সঙ্গীদের পথ ধরে চলতে অনুপ্রাণিত হয়।

সরল পথের জন্য জ্ঞান ও আমল দুটোই কেন জরুরি?

কারণ দুই বিচ্যুতির একটি জ্ঞানের অভাবে, অন্যটি আমলের অভাবে। ‘দ্বাল্লীন’ পথ হারায় না-জেনে, আর ‘মাগদুব’ পথ হারায় জেনেও না-মেনে । তাই প্রকৃত সরল পথ সেটিই, যেখানে সত্য জানাও আছে এবং সেই অনুযায়ী আমলও আছে; জ্ঞান ও কাজের এই সমন্বয়েই হিদায়াতের পূর্ণতা।

প্রশ্ন করে জানুন
মূল তাফসীর পড়ুন

সরাসরি মূল ক্লাসিক তাফসীর - হুবহু, সম্পাদনা ছাড়া।

একটি তাফসীর বেছে নিন।

আরও পড়ুন: Bangla Tafheem · Quran.com