তাজবীদ ফোনেটিক স্ট্যান্ডার্ড (TPS)
আরবি থেকে ফোনেটিক রূপান্তরের প্রমিত স্ট্যান্ডার্ড ও সম্পূর্ণ নিয়মাবলি
আরবি না জেনেও সঠিক উচ্চারণে কুরআন, হাদিস ও দোয়া পড়ুন — তাজবীদের নিয়ম রঙ ও স্টাইলে চোখের সামনে।
কাদের জন্য
যারা বাংলা পড়তে পারেন কিন্তু আরবির জটিল মাখরাজ ও তাজবীদ এখনো শেখেননি — তাদের জন্য। কুরআন, হাদিস বা দোয়া বাংলা উচ্চারণে পড়া বা মুখস্থ করার সময় যেন ন্যূনতম তাজবীদ মেনে কাছাকাছি সঠিক উচ্চারণ করা যায়, সেটাই লক্ষ্য।
তাজবীদ লিপির বৈশিষ্ট্য
সাধারণ কিবোর্ডে, কোনো বিশেষ ফন্ট বা জটিল চিহ্ন ছাড়াই টাইপযোগ্য। আরবির টান, গুন্নাহ এবং বাংলায় একই অক্ষরে মিলে যাওয়া দুটি হরফের সূক্ষ্ম পার্থক্য — বোল্ড, ইটালিক ও আন্ডারলাইনের মতো সহজ ডিজিটাল স্টাইলে আলাদা করে দেখানো হয়।
কেন তাজবীদ লিপি আলাদা
তাজবীদের রঙ ও স্টাইল দেখানো হয় বাংলা (বা হিন্দি/ইংরেজি) উচ্চারণের উপর — শুধু আরবি হরফে নয়। তাই আরবি না পড়তে পারলেও নিয়ম চোখে দেখা যায়।
শুধু সংরক্ষিত আয়াত নয় — কুরআন, হাদিস, দোয়া যেকোনো আরবি টেক্সট নিয়ম-ভিত্তিক ইঞ্জিন সঙ্গে সঙ্গে রূপান্তর করে।
এলোমেলো বানান নয় — তাজবীদ ফোনেটিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সুসংগত নিয়ম, বোল্ড/ইটালিক/আন্ডারলাইনে এনকোড করা।
বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি — তিন লিপিতে আউটপুট। সম্পূর্ণ ফ্রি, পাবলিক API সহ।
সাধারণ বাংলা উচ্চারণ বনাম তাজবীদ লিপি
| বিষয় | সাধারণ বাংলা উচ্চারণ | তাজবীদ লিপি (TPS) |
|---|---|---|
| তাজবীদ নিয়ম | দেখা যায় না | রঙ ও স্টাইলে দৃশ্যমান |
| ভারী/নরম হরফ (ط·ت, ص·স) | মিলে যায়, পার্থক্য হারায় | বোল্ড/ইটালিকে আলাদা |
| টান ও গুন্নাহ | কোনো ইঙ্গিত নেই | আন্ডারলাইনে চিহ্নিত |
| সঙ্গতি | যে যার মতো বানান | একটি প্রমিত নিয়ম |
| পরিসর | হাতে লেখা, সীমিত | যেকোনো টেক্সট, স্বয়ংক্রিয় |
শুদ্ধতার মাত্রা ও শিক্ষকের গুরুত্ব
এই লিপি দেখে মাত্র এক মিনিট নিয়ম পড়েই একজন সাধারণ পাঠক ন্যূনতম সহিহ তিলাওয়াত করতে পারবেন। পরে বোল্ড ও ইটালিকের মতো বিশেষ স্টাইলগুলো একজন যোগ্য শিক্ষকের কাছে কিছুক্ষণ অনুশীলন করলে তিলাওয়াত একশ শতাংশের কাছাকাছি সঠিক করা সম্ভব।
সতর্কীকরণ
বাংলা হরফ কখনোই আরবির শতভাগ বিকল্প নয়। ভুল উচ্চারণ এড়াতে সর্বদা মূল আরবি দেখে পড়ার চেষ্টা করুন এবং একজন যোগ্য শিক্ষকের অধীনে তাজবীদ ও মাখরাজ শিখুন। তাজবীদ লিপি শেখার একটি সহায়ক সেতু — শিক্ষকের বিকল্প নয়।
তাজবীদ ফোনেটিক স্ট্যান্ডার্ড (TPS)
তাজবীদ লিপি একটি নথিবদ্ধ স্ট্যান্ডার্ডের উপর দাঁড়িয়ে — আরবি থেকে বাংলা ফোনেটিক রূপান্তরের প্রমিত নিয়মাবলী। এই ওয়েবসাইট সেই স্ট্যান্ডার্ডের জীবন্ত বাস্তবায়ন।
১. ফন্ট স্টাইল — অক্ষর চেনার উপায়
বাংলা উচ্চারণের সাথে স্বাভাবিকভাবে মেলে
আরবি: ا ب ت ج خ د ر ز س ش غ ف ك ل م ن ه
বাংলা: আ(ا) ব(ب) ত(ت) জ(ج) খ(خ) দ(د) র(ر) ঝ(ز) স(س) শ(ش) গ(غ) ফ(ف) ক(ك) ল(ل) ম(م) ন(ن) হ(ه)
গলার গভীর থেকে, সবসময় ভারী উচ্চারণ
আরবি: ح ص ض ط ع ق
বাংলা: হ(ح) ছ(ص) দ(ض) ত(ط) আ(ع) ক(ق)
জিভের ডগা দাঁতের মাঝে, নরম উচ্চারণ
আরবি: ث ذ و
বাংলা: ছ(ث) জ(ذ) অ(و)
ভারী + নরম একসাথে
আরবি: ظ
বাংলা: য(ظ)
২. আরবি অক্ষর → বাংলা ম্যাপিং (৩০টি)
আগের অক্ষরের হরকত অনুযায়ী
জিভের ডগা দাঁতের মাঝে
গলার গভীর থেকে
তাফখীম — যবরে আ-কার নেই
জিভের ডগা দাঁতের মাঝে
তাফখীম — যবরে আ-কার নেই
তাফখীম — যবরে আ-কার নেই
তাফখীম — যবরে আ-কার নেই
তাফখীম — যবরে আ-কার নেই
তাফখীম — যবরে আ-কার নেই
আগের অক্ষরের হরকত অনুযায়ী
তাফখীম — যবরে আ-কার নেই
তাফখীম — যবরে আ-কার নেই
সাকিনে হসন্ত সহ ইটালিক ও
সাকিনে হসন্ত সহ য়
ওয়াকফে হ, ওয়াসলে ত
আলিফ সাকিনের মত, আগের হরকত অনুযায়ী
| আরবি | নাম | বাংলা | ফন্ট | যবর | যের | পেশ | সাকিন | বিশেষ নোট |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ا | আলিফ | আ | — | আ | ই | উ | আ্/ই্/উ্ | আগের অক্ষরের হরকত অনুযায়ী |
| ب | বা | ব | — | বা | বি | বু | ব্ | — |
| ت | তা | ত | — | তা | তি | তু | ত্ | — |
| ث | ছা | ছ | বাঁকা | ছা | ছি | ছু | ছ্ | জিভের ডগা দাঁতের মাঝে |
| ج | জিম | জ | — | জা | জি | জু | জ্ | — |
| ح | হা (বড়) | হ | মোটা | হা | হি | হু | হ্ | গলার গভীর থেকে |
| خ | খ | খ | — | খ | খি | খু | খ্ | তাফখীম — যবরে আ-কার নেই |
| د | দাল | দ | — | দা | দি | দু | দ্ | — |
| ذ | জাল | জ | বাঁকা | জা | জি | জু | জ্ | জিভের ডগা দাঁতের মাঝে |
| ر | রা | র | — | র | রি | রু | র্ | তাফখীম — যবরে আ-কার নেই |
| ز | ঝা | ঝ | — | ঝা | ঝি | ঝু | ঝ্ | — |
| س | সিন | স | — | সা | সি | সু | স্ | — |
| ش | শিন | শ | — | শা | শি | শু | শ্ | — |
| ص | ছদ | ছ | মোটা | ছ | ছি | ছু | ছ্ | তাফখীম — যবরে আ-কার নেই |
| ض | দদ | দ | মোটা | দ | দি | দু | দ্ | তাফখীম — যবরে আ-কার নেই |
| ط | তোয়া | ত | মোটা | ত | তি | তু | ত্ | তাফখীম — যবরে আ-কার নেই |
| ظ | যোয়া | য | মোটা+বাঁকা | য | যি | যু | য্ | তাফখীম — যবরে আ-কার নেই |
| ع | আইন | আ | মোটা | আ | ই | উ | আ্/ই্/উ্ | আগের অক্ষরের হরকত অনুযায়ী |
| غ | গইন | গ | — | গ | গি | গু | গ্ | তাফখীম — যবরে আ-কার নেই |
| ف | ফা | ফ | — | ফা | ফি | ফু | ফ্ | — |
| ق | ক্বাফ | ক | মোটা | ক | কি | কু | ক্ | তাফখীম — যবরে আ-কার নেই |
| ك | কাফ | ক | — | কা | কি | কু | ক্ | — |
| ل | লাম | ল | — | লা | লি | লু | ল্ | — |
| م | মিম | ম | — | মা | মি | মু | ম্ | — |
| ن | নূন | ন | — | না | নি | নু | ন্ | — |
| و | ওয়াও | অ | বাঁকা | অ | উই | উ | ও্ | সাকিনে হসন্ত সহ ইটালিক ও |
| ه | হা (ছোট) | হ | — | হা | হি | হু | হ্ | — |
| ي | ইয়া | য় | — | য়্যা | য়ি | য়ু | য়্ | সাকিনে হসন্ত সহ য় |
| ة | তা মারবুতা | ত/হ | — | তা/হা | তি/হি | তু/হু | ত্/হ্ | ওয়াকফে হ, ওয়াসলে ত |
| ء | হামযা | অ | — | আ | ই | উ | আ্/ই্/উ্ | আলিফ সাকিনের মত, আগের হরকত অনুযায়ী |
৩. হরকত (স্বরচিহ্ন) — যবর, যের, পেশ, সাকিন, শাদ্দা
অক্ষরের পর আ-কার। তাফখীম অক্ষরে আ-কার হবে না।
অক্ষরের পর ই-কার।
অক্ষরের পর উ-কার।
অক্ষরের পর হসন্ত — স্বরবর্ণ ছাড়া উচ্চারণ।
অক্ষর দুইবার উচ্চারণ — প্রথমে সাকিন, তারপর স্বরযুক্ত।
৪. তানবীন — যবর/যের/পেশ + নূন সাকিন
যবর + নূন সাকিন এর ধ্বনি। শেষে আলিফ (ا) নীরব।
পেশ + নূন সাকিন এর ধ্বনি।
যের + নূন সাকিন এর ধ্বনি।
৫. বিশেষ চিহ্ন
১ আলিফ পরিমাণ টান — আন্ডারলাইন দিয়ে চিহ্নিত।
সংযুক্ত পাঠে নীরব। আলাদা পাঠে আলিফ।
৬. মাদ্দ (দীর্ঘ টান) — ৪ প্রকার
যবর+আলিফ, পেশ+ওয়াও সাকিন, যের+ইয়া সাকিন
উদাহরণ: কালা
মাদ্দ অক্ষরের পর একই শব্দে হামযা (নিয়মিত আলিফ বা খাড়া যবর যেকোনো মাদ্দ-অক্ষরের পর)
উদাহরণ: জা….আ
মাদ্দ অক্ষরের পর পরবর্তী শব্দে হামযা
উদাহরণ: ফি...আ
মাদ্দ অক্ষরের পর সাকিন/শাদ্দা একই শব্দে
উদাহরণ: লা….ম্
৭. ওয়াকফ (থামার নিয়ম)
শেষ অক্ষরে যবর থাকলে ওয়াকফে সাকিন হয়ে যায়।
উদাহরণ: يُبْصِرُونَ → য়ুব্ছিরুন(..না)
শেষ অক্ষরে যের থাকলে ওয়াকফে সাকিন হয়ে যায়।
উদাহরণ: الرَّحِيمِ → র্রহিম(..মি)
শেষ অক্ষরে পেশ থাকলে ওয়াকফে সাকিন হয়ে যায়।
উদাহরণ: نَسْتَعِينُ → নাছ্তাঈনু(..নু)
দুই যবর থাকলে ওয়াকফে এক যবর (আ-কার) ধরে পড়া হয় — আলিফ পরিমাণ টান হয়।
উদাহরণ: عَلِيمًا → আলিমা̲ (টান সহ)
দুই যের থাকলে ওয়াকফে সাকিন হয়ে যায়, তানবীনের ন ধ্বনি পড়া হয় না।
উদাহরণ: أَحَدٍ → আহাদ্
দুই পেশ থাকলে ওয়াকফে সাকিন হয়ে যায়, তানবীনের ন ধ্বনি পড়া হয় না।
উদাহরণ: أَحَدٌ → আহাদ্
৮. তাজবীদের ৮টি মূল নিয়ম — কালার কোডেড
নূন সাকিন বা তানবীনকে সম্পূর্ণ প্রকাশ না করে, গুন্নাহ সহ অসম্পূর্ণভাবে গোপন করে পড়া। ং-এ আন্ডারলাইন থাকে।
يُنفِقُونَ → য়ুংফিকু̲ন | مِن قَبْلِ → মিং কব্লিনূন সাকিন/তানবীনকে পরবর্তী অক্ষরে মিলিয়ে পড়া। নূন হারিয়ে যায়, পরের অক্ষর শাদ্দা সহ পড়া হয়।
هُدًى لِّلْ → হুদা ল্লি (ন বিলীন) | مِن رَّبِّ → মি র্রব্বিনূন সাকিন/তানবীনকে মীমে (ম) পরিবর্তন করে, গুন্নাহ সহ বা-এর সাথে মিলিয়ে পড়া। ম-এ আন্ডারলাইন থাকে।
مِن بَيْنِ → মিমবাইনি | أَنبِيَاء → আমবিয়্যা̲...আনূন সাকিন/তানবীনকে স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে উচ্চারণ করা, কোনো গোপনতা বা মিশ্রণ ছাড়া।
مَنْ هُوَ → মান্ হুঅ | أَنْعَمْتَ → আন্আম্তানাকের ভেতর দিয়ে ২ আলিফ পরিমাণ নাসিকা ধ্বনি। নূন/মীম শাদ্দা, ইখফা, ইক্বলাব ও ইদগাম মা'আল গুন্নাহ — সবক্ষেত্রে আন্ডারলাইন থাকবে।
إِنَّ → ইন্না̲ | مِمَّا → মিম্মা̲ | يُنفِقُ → য়ুং̲ফিকুমাদ্দের সবচেয়ে সাধারণ রূপ — স্বরবর্ণকে ১ আলিফ (২ হারাকাত) পরিমাণ টেনে পড়া।
قَالَ → কা̲লা | فِي → ফি̲ | يَقُولُ → য়্যাকূ̲লুওয়াজিব — অবশ্যই ৪ আলিফ পরিমাণ টানতে হবে। হামযা মাদ্দ অক্ষরের সাথে যুক্ত।
جَاءَ → জা̲….আ | السَّمَاءَ → আছ্ছামা̲….আজায়েয — ৩ আলিফ পরিমাণ টানা উত্তম। হামযা পরের শব্দে, তাই মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন)।
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ → ইন্না̲...আ'তাইনাকামাদ্দের সবচেয়ে দীর্ঘ রূপ — অবশ্যই ৬ হারাকাত (৪+ আলিফ) টানতে হবে। সূরার শুরুর হুরূফে মুক্বাত্তা'আত এর সাথেও প্রযোজ্য।
الٓمٓ → আ̲….ল্….মী̲ম্ | الضَّالِّينَ → আদ্দ্বা̲….ল্লীনএই ৫টি অক্ষর সাকিন অবস্থায় (সুগরা) বা শব্দের শেষে (কুবরা) হালকা প্রতিধ্বনি/ঝংকার দিয়ে উচ্চারিত হয়।
يَقْدِرُ → য়্যাক্দিরু̲ | أَحَدٌ → আহাদ্ (শব্দের শেষে)এই অক্ষরগুলো সবসময় মোটা/ভারী উচ্চারিত হয়। যবর থাকলেও আ-কার যোগ হয় না। কিন্তু তাফখীম নয় এমন অক্ষরে আ-কার স্বাভাবিক।
خَلَقَ → খলাক (খ ও ক তাফখীম — আ-কার নেই, কিন্তু ল তে আ-কার আছে)৯. সম্পূর্ণ উদাহরণ — সূরা ফাতিহা ও সূরা বাকারাহ ১-৩২
নিচের লিপ্যন্তরণ গুলো ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি। উপরের সব নিয়ম (ফন্ট, হরকত, তানবীন, মাদ্দ, ৮ তাজবীদ রুল, ওয়াকফ) প্রয়োগ করা হয়েছে। আয়াত নম্বর বন্ধনীতে।
সূরা আল-ফাতিহা (১:১-৭)
৭ আয়াত · মাক্কি · প্রতিটি আয়াত আলাদা কপি করতে পারবেন
সূরা আল-বাকারাহ (২:১-৩২)
২৮৬ আয়াত · মাদানি · প্রথম ৩২ আয়াত · প্রতিটি আয়াত আলাদা কপি করতে পারবেন